Friday, May 7, 2021


কেমন আছ প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশ?

By বাফেলো বাংলা , in Blog Politics , at জানুয়ারী 6, 2020

এম এ লতিফ:

বাংলাদেশ অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু কথা হলো এখন ও বাংলাদেশে দুই বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এর একমাত্র কারণ সেকুলার ধর্মহীন শিক্ষানীতি এবং মিডিয়ায় অশী লতার ছড়াছড়ি। আধুনিক ও প্রগতির নামে এক শ্রেণীর মানুষরূপী নাস্তিক দেশের যুবকদের চরিত্র ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
তারই ধারাবাহিকতায় ধর্ষণের মহা উৎসব। কথার অবতারণা এক শিশু ধর্ষণের বর্বরতা নিয়ে। সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার হয় সায়মা নামক এক শিশু মানুষরূপী জানোয়ারের হাতে।এছাড়া হাফেজে কোরআন এক শিশু ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করলে অকারণে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
“আপনি * জম্মের সময় নার্সের অবহেলায় না মরলে ডাক্তারের অবহেলায় মরবেন * ডাক্তারের অবহেলায় না মরলেও চিকিৎসা খরচে মরবেন * বন্যায় মরবেন।বন্যায় বেঁচে গেলেও * সড়ক দুর্ঘটনায় মরবেন। দুর্ঘটনায় না মরলেও * ভেজাল খাদ্য খেয়ে মরবেন। সবকিছুতে বেঁচে গেলেও একদিন আপনাকে বিনা কারণে * গণপিটুনি খেয়ে মরতে হবে। * আগুনে পুড়ে মরতে পারেন, * প্রকাশ্যে দিবালোকে কোপ খেয়েও মরতে পারেন। চাঁদাবাজীদের দাবী পূরণ করতে না পারলে মরতে পারেন * মায়ের গর্ভে থেকেও গুলি খেয়ে মরতে পারেন, তা না হলে * নৃশংস ধর্ষণের শিকার হয়ে মরতে পারেন। তারপরেও
না মরলে * অন্তত ক্রসফায়ারে গুলি খেয়ে মরবেন। মোটকথা জন্মনিয়ন্ত্রণ রোধে এদেশে মৃত্যুর সব পন্থাই এখনো খোলা আছে ।
যাক, এই বার ধর্ষণের শিকার সায়মাকে নিয়ে কিছু কথা বলি- সায়মা হায়েনাদের দেশে জন্মেছিলে তুমি।এ এমন এক দেশ, যে দেশে সবাই ভুলেই গেছে বিচার বলে একটি শব্দ আছে। নৈতিকতা শব্দটিতো অনেক আগেই লজ্জা নিয়ে পালিয়েছে। এখানে লোভ লালসা দূর্নীতি এগুলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
এদেশের বেডরুমে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল, নাটক বা মুভি নামে যা চলে তা সবই পরকিয়া ও নিকৃষ্ট অশ্লীলতায় ভরা। এসবের সমষ্টিই আজ তোমাকে বলি হিসেবে মেনে নিতে হল।
তোমার মৃতদেহটি যেন এদেশেরই প্রতিচ্ছবি !!!!
এ অভিশপ্ত জাতিকে তিরস্কার করবে কিনা জানিনা, তবে এটাই আমাদের প্রাপ্য।।
প্রসাশনের এই ব্যাপারে কোন মাাথা ব্যাথা নেই।
আমরা লজ্জিত, ক্রোধান্বিত, ব্যাথিত।আল্লাহ তোমার বাবা-মাকে ধৈর্য ধারন করার তৌফিক দান করুক এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতবাসী করুক।
হায়মানুষ এত নিকৃষ্ট কিভাবে হয়!
মুখে রক্ত, ঠোঁটে কামড়ের দাগ, ক্ষতবিক্ষত নিস্তব্ধ দেহ , কেমন আছো স্বাধীন বাংলাদেশ!?
মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ে ফুলের পাপড়ির মতো নিষ্পাপ একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার নিউজ।নিউজ গুলো আর ফেইসবুকে অনেক ভাইবোনের অনেক পোস্ট পড়লাম। আহা কী বিভৎসতা, কী নির্মমতা! ৭ বছরের একটি ছোট্ট শিশু,ছোট্ট শরীর।
রাজধানীর ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়তো সে। যে শিশুটি হাসি-উল -াস, খেলাধুলা আর আব্বু-আম্মুকে ডেকে ডেকে মাতিয়ে রাখতো ঘর। নিষ্পাপ সেই শিশুটির নিথর দেহ পড়ে আছে ৯ তলার একটি নির্জন খালি ফ্লাটের কোনায়।
মুখে রক্ত, ঠোঁটে কামড়ের দাগ, ক্ষতবিক্ষত দেহ। কোনো এক নরপিশাচের শিকার হয়েছে সে। বিকৃত ও বিকারগ্রস্ত যৌন উন্মাদনায় হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে শিশুটির ওপর। কুড়ে কুড়ে ছিড়ে খেয়ে গেলো অসভ্য জানোয়ার।
নিউজটি আজ কয়েকবার পড়ছি যতবার পড়ার চেষ্টা করেছি ততবার আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। নিজেকে ধিক্কার দিলাম।নিজেকে পুরুষ হিসেবে ভাবতে ভীষণ লজ্জা অনুভব করছিলাম। কিছু লিখবো হাত কাঁপছিল, কিবোর্ডে টাইপ করার শক্তি পাচ্ছিলাম না।ভাবছিলাম যে পুরুষটি একটি শিশুর ওপর এভাবে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে শেষ করে দিল, সে কি জঙ্গলের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হায়েনা। শিয়াল কিংবা কুকুর! নাকি তার চেয়ে ভয়ঙ্কর কোনো পশু!


আল্লাহ তায়ালা এই অসভ্য-বর্বর মানুষের কথা কোরান শরিফে তুলে ধরে বলেন, ‘এরা শুধু চতুষ্পদ জন্তুই নয় বরং তার চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ৪৪)।
দিনই দিনই বাড়ছে এই অসভ্য, লম্পট ও বর্বর মানুষের সংখ্যা। খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে ধর্ষণ আর খুনের নিউজ।! পত্রিকায় খবর- সারা দেশে গত ৩০ দিনে ৫৮ জন মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ৭ দিনে ৪১টি শিশু ধর্ষণ করা হয়েছে… একইসঙ্গে ভয়াবহ হারে বাড়ছে ধর্ষণের সংখ্যা।
ভেবেছিলাম, বরগুনায় রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার দায়ে খুনি নয়ন বন্ডকে যখন ক্রসফায়ার দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে, এই ছবি যখন গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, সব মানুষ এটা দেখেছে। বাকি আসামিরা একের পর ধরা পড়ছে, ভেবেছিলাম- এসব দেখে অপরাধীরা নিবৃত্ত হবে, ধর্ষণ-খুনের মাত্রা কিছুদিনের জন্য হলেও বন্ধ থাকবে। কিন্তু না, একটুও কমেনি।
বরং আরো বিভৎস্য অবস্থায় আরো নির্মমভাবে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে, চলছে একের পর এক ধর্ষণ। বাদ পড়ছে না ১০০ বছরের বৃদ্ধাও। এই নরপিশাচ কারা? সমাজের অশিক্ষিত লোক, বস্তির লোক? রিকশা ওয়ালা কিংবা কোনো গুন্ডাবাহিনী? না এরা গরিব মানুষ নয়, বা শুধু গুন্ডা বাহিনী নয়, ধর্ষণের নিউজগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় রাজনৈতিকনেতা, শিক্ষক, অধ্যক্ষ, ডাক্তার, পুুুলিশ , ড্রাইভার, ছাত্রনেতা নামধারী থেকে শুরু করে ডিসি উপ সচিব পর্যন্ত বহু সম্মানিত মানুষ ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
মনে রাখতে হবে নিষ্পাপ শিশু সায়েমাদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে না পারলে ৩০ লাখ শহিদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা অর্থহীন। যে স্বাধীনতা দেশেরে মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, প্রতিদিন ধর্ষিত হবে দেশের শিশু ও নারীরা, খুন হবে নির্বিচারে- এই স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করেনি।
ভুলে গেলে চলবে না- বহু দাম দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতা। পাকিস্তানি নরপিশাচদের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্যেই এই স্বাধীনতা, ধর্ষণ-খুন ও অর্থনিতক মুক্তির জন্যই এই স্বাধীনতা,,,
তাই শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দমনের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আইন প্রয়োগ করা হোক।
এই ব্যাপারে সকল স্তরের প্রশাসনের ও প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

bn_BDBengali
en_USEnglish bn_BDBengali