Thursday, August 5, 2021


‘গ্রেটার বাফেলোতে ২০টির মত ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র’ নতুন প্রজন্মকে ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বাফেলো’র বাংলাদেশী অভিভাবকরা প্রতীজ্ঞ

By বাফেলো বাংলা , in Blog Buffalo Bangla , at জানুয়ারী 11, 2020

আরীফ হোসাইন: ৬ বছর আগে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে দুই ফ্যামিলির বাড়ীটি কিনেছিলেন মোবারক হোসেন। নিজের পরিবার নিয়ে থাকার পরও মর্গেজ পরিশোধ করে ভাড়া থেকে প্রতি মাসে উদ্বৃত্ত থাকে তার। তারপরও নিউইয়র্ক ছেড়ে কয়েক মাস আগে বাফেলো’তে মুভড হয়েছেন। উদ্দেশ্যে সন্তান বড় হচ্ছে, তাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের জন্য ভালো পরিবেশ গড়তে হবে। এজন্য বাফেলো’তে স্থায়ী বসবাস করতে চান। এভাবে নতুন প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে অনেকেই নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন স্টেট ছেড়ে বাফেলো’তে স্থায়ী বসবাস করছেন। তাদের স্বপ্ন নিজের সন্তানকে আমেরিকার প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন।
মাওলানা ফায়াজ আহমদ চৌধুরী। তিনি একটি মসজিদে ইমামতি এবং একটি ইসলামিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিউইয়র্ক সিটি থেকে বাফেলো’তে ৫ বছর ধরে স্থায়ী বসবাস করছেন। তার ৩ ছেলে ও এক মেয়েকে ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন। এক ছেলে এখনো নিউইয়র্ক সিটির মাদরাসায় উচ্চতর পড়া লেখা করছেন। ২ ছেলে বাফেলো’তে কলেজে পড়াশোনা করছেন।
ব্রডওয়ে সংলগ্ন ওলজ স্ট্রিটের বাসিন্দা মুশফিকুর রহমান বলেন, আমার ৩ সন্তান।আমেরিকায় উন্নতমানের জীবন যাপন নিশ্চিত করা গেলেও নতুন প্রজন্মকে ইসলামের শিক্ষায় গড়ে তোলা কঠিন। ইসলামিক শিক্ষার কথা চিন্তা করে একজন আল-মানার একাডেমী দ্বিতীয় গ্রেডে ভর্তি করিয়েছেন। বাকীরা এখনো ছোট।
তিনি বলেন, আমার সন্তানদের কাউকে ওয়েস্টার্ন কালচার ও শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষ করতে চাইনা। প্রয়োজনের ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে মিডেল ইস্টে পড়া লেখা করাতেও প্রস্তুত।
ব্রিংকমেন এভিনিউ’র বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে এ দেশের শিক্ষার সঙ্গে ইসলামও শিক্ষা দিতে হবে। এজন্য আমার দুই মেয়েকে ইসলামিক স্কুলে পড়েয়েছি। ছোট দুই ছেলে উইকেন্ড স্কুলে আরবী শিখার জন্য ভর্তি করিয়েছি। তবে দুইদিন আরবী শিখার যথেষ্ট মনে করেননা তিনি। আরো কয়েক বছর তাদেরকেও ইসলামিক স্কুল ভর্তি করাবেন বলে জানান তিনি।
আল-মানার একাডেমীর প্রিন্সিপাল ড. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমেরিকান পাবলিক স্কুল কারিকুলাম ভালো নাগরিক সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট না। যার কারণে আমেরিকায় বিভিন্ন কমিউনিটি স্বতন্ত্র স্কুল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিখতে সহায়তা করে। এজন্য আমেরিকায় মুসলিম কমিউনিটির স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। যদিও নিউইয়র্ক সিটি ও বাফেলো’সহ বিভিন্ন স্থানে ইসলামিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করেন ড. আমিনুল।
তিনি জানান, বিগত কয়েক বছরে মুসলিম কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য মানুষ বাফেলো’তে স্থায়ী বসতি গড়েছেন। স্টেট স্কুলগুলো’র রেটিংয়ে বাফেলো’র অবস্থান অনেক তলানী রয়েছে। বাফেলো’তে পড়া লেখার মান বিবেচনায়ও নতুন প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরী।
ড. আমিনুল বলেন, চলমান ওয়েস্টার্ন কালচার থেকে আমাদের সন্তানদের শুধুমাত্র দূরে রাখার চেষ্টা করাই যথেষ্ট নয় বরং ছোট বেলা থেকেই ইসলামের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য মসজিদ ও কালচারাল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বৃহত্তর বাফেলো’তে আল রাশেদ একাডেমি, আল-মানার একাডেমি, দারুল উলুম আল মদিনা, ইউনিভার্সাল স্কুল, দারুল কোরআন ওয়াস্সুন্নাহ ও মাদিনাতুল উলুমসহ ২০ টির মতো ছোট বড় ইসলামিক স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে মাসে ২০০ ডলার থেকে শুরু করে ৬০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। তবে পরিবারের একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে জন প্রতি খরচ কিছুটা কম হয়। এসব স্কুলে প্রিস্কুল, ইলেমেন্টারি ও মিডল স্কুলে পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্কুলগুলো’তে নিয়মিত কারিকুলামের পাশাপাশি ইসলামিক কারিকুলাম সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হিফজুল কোরআন বিভাগও রয়েছে।

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

bn_BDBengali
en_USEnglish bn_BDBengali