Thursday, October 21, 2021


ভারতীয় ‘র’এর কব্জায় প্রিয় স্বদেশ

By বাফেলো বাংলা , in Blog , at ফেব্রুয়ারী 9, 2020

এম এ লতিফ: সম্প্রতি ভারতের অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সোনার ছেলেরা পিঠিয়ে মারল বুয়েটের ছাত্র “আবরারকে” তারপর ও প্রতিবাদ থেমে নাই গর্জে উঠল ভিপি নূর । ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিলে ভারতীয় এজেন্ট “ইসকন” এর নেতৃত্বে তথাকথিত “মুক্তিযুদ্ধ মঞ” নামে চেতনা ব্যাবসায়ীরা তাকে হত্যা করার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয় তারা দীর্ঘদিনের পুরানো সংবাদপএ “দৈনিক সংগ্রাম” অফিসে ঠুনকো অজুহাতে বর্বর হামলার করে তছনছ করে এবং বয়োবৃদ্ধ সম্পাদক আবুল আসাদকে নাজেহাল করে উল্টো সরকার বাহাদুরের পুলিশ রিমান্ডে নেয়। এরা এইভাবে সকল প্রতিবাদী কন্ঠস্বরকে থামিয়ে দিয়ে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে ভারতীয় এজেন্টা বাস্তবায়ন করতে চাই। এইজন্য তারা প্রশাসনের সকল স্তরে ইসকন সদস্য ও ‘ র’ এর এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে দেশটা তাদের হাতে তুলে দিয়ে পরকীয়ায় লিপ্ত। এই ভারতীয়রা সেনাবাহিনী, পুলিশ, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ এদের দখলে নিয়ে’ র’ এর পরিকল্পনায় পুরো দেশ পরিচালিত করছে, এ যেন স্বাধীন দেশে পরাধীন জনগণ! সরকারী দলেও ইসকনের সদস্য নির্বাচিত হচ্ছে উদাহরণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য একজন ইসকন সদস্য।এই ব্যাপারে আমাদের মুসলিম নামধারী তথাকথিত সেকুলার , প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের কোন টু শব্দ পর্যন্ত নাই। সেকুলার ভারতে প্রতিদিন মুসলিমদের পিটিয়ে মারলে ও যারা ভারতে বৃষ্টি হলে ঢাকায় বসে ছাতা ধরে তাদের মুখে ভারতীয় জংলিদের আগ্রাসনের ব্যাপারে কোন কথা নেই। কিন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে নাস্তিক মুরগী কবিরদের কোন অভাব নেই।
গত কয়েক মাসে আগে বাংলাদেশের হাইকোর্টে একটি রিট হয়। সেই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতীয় জনৈক নাগরিক রাজিব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছিলো হাইকোর্ট।রাজীব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ওয়ার্ক পারমিট ও যথাযথ ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশে সহজ লিমিটেডে চাকুরী করছে। শুধু তাই নয়, মোটা অংকের বেতন পেলেও সে কখন কর দেয়নি।
কথা হলো- বাংলাদেশে রাজীব ভট্টাচার্যের মত ভারতীয় নাগরিক কম নয়। তারা বাংলাদেশের চাকুরীর নামে মোটা টাকা নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থাকে তোয়াক্কাই করছে না। এদের সংখ্যা কারো কারো মতে বার লক্ষের উপরে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা সরকারি হিসেবে সাড়ে ১০ লক্ষের কাছাকাছি (যদিও প্রকৃত হিসেব আরো অনেক বেশি)।বাংলাদেশের চাকুরী সেক্টরে যদি এই সব ভারতীয় কাজ না করতো, তবে বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারদের বেকারত্ব অধিকাংশ মেটানো সম্ভব ছিলো।
সম্প্রতি ভারত আসামের ১৯ লক্ষ নাগরিককে বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর পায়তারা করছে, যদিও বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা। কিন্তু তাদের দেশের পনের লক্ষ নাগরিক যে বাংলাদেশের জব সেক্টর দখল করে রেখেছে এটা তো সত্য। যে ভারত নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে চাপে রাখতে চায়, সে দেশের পনের লক্ষ নাগরিককে চাকুরীচ্যূত করে কেন আমরা ভারতকে চাপে রাখবো না ?
আমি জানি, অনেকেই বলবে- “ভাই, সরকার ভারতের বিরোধীতা করবে না ? তাই এগুলো করে লাভ নাই।”
আসলে আমি সরকারকে কখন দোষারোপ করি না। আমার মতে সব দোষ জনগণের।জনগণ যেমন সরকারও তেমন।
জনগণকে আগে এই সব ভারতীয় বিরুদ্ধে আন্দোলন তৈরী করতে হবে, তারপর দেখুক সরকার তাদের বিরুদ্ধে কতটুকু ব্যবস্থা নেয় ?
এখন সবাই ফেসবুকে সংযুক্ত। কার অফিসে কত ভারতীয় আছে, তার লিস্ট করুক, পদ কি, কত বেতন পায় তার লিস্ট করে এক যায়গায় করুক।
তারপর সেই লিস্ট দাবী উঠাক- এই ভারতীয়দের অবিলম্বের চাকুরীচ্যূত করতে হবে এবং সে স্থানে বাংলাদেশীদের চাকুরী দিতে হবে।
বাংলাদেশে যে কোম্পানি ব্যবসা করতে যাবে (দেশী হোক আর বিদেশী হোক) তাকে অবশ্যই বাংলাদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দিতে হবে,
বিদেশী নিয়োগ দিতে পারবে না।প্রয়োজনে দেশী লোকদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে সেই স্থান পূরণ করতে হবে।
কিন্তু তারপরও ভারতীয় নিয়োগ দিতে পারবে না। দিলে ঐ কোম্পানি জনগণ গিয়ে বন্ধ করে দিয়ে আসবে। প্রয়োজনে সবাই তাদের বয়কট করবে।
ভারত আমাদের বিরুদ্ধ নানান ষড়যন্ত্র করেছে এবং করতেই থাকবে।
বাংলাদেশের জব সেক্টর থেকে ভারতীয়দের ‘ঘাড় ধাক্কা’ দিয়ে বের করে দেয়ার মত আর শক্তিশালী জবাব আর হতে পারে না।
এই আন্দোলনের নাম হতে পারে-“ভারতীয় খেদাও, বেকার বাচাও”।
পত্রিকা খুলে দেখবেন, বাংলাদেশে অনেক বেকার যুবক বেকারত্বের অভিশাপের কারণে আত্মতহ্যা করছে, এই আন্দোলন হবে তাদের বাচানোর প্রয়োজনে। বাংলাদেশে ঘাপটি মেরে আছে ১৫ লাখ অবৈধ ভারতীয় দেশের হাই লেভেলের চাকরির বাজার দখল করে রেখেছে বিদেশীরা।যার অধিকাংশই অবৈধ।ইউরোপ সহ উন্নত দেশ গুলির অভিবাসীরা বৈধ পথে আসলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তিন দিক থেকে ঘেরা ভারত থেকে যারা আসছেন তাদের ৯৯% অবৈধ।যার সংখ্যা রীতিমত চমকে দেয়ার মত।২০১০ সালের হিসাবেই বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি অবৈধ ভারতীয় শুধু বসবাস করছেন যা এখন ১৫ লাখের অধিক ছেড়ে গেছে তারা শুধু বসবাসই করছে না, দেশের উচ্চপদের চাকরির ৯০%তাদের দখলে। ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে মিল থাকায় তাদের বাংলাদেশী হিসেবে বাস করতে কোন সমস্যা হচ্ছেনা।
দেশের গার্মেন্টস থেকে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং মোবাইলফোন কোম্পানি পর্যন্ত নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে অবৈধ ভারতীয়রা। সেনাবাহিনী , পুলিশে উচ্চ পদে শুধু নয়, অনেককে এমনকি নীতিনির্ধারকের অবস্থানেও দেখা যাচ্ছে।বছরের পর বছর ধরে চাকরি করছে তারা অবৈধভাবে। অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় দু’মাসের জন্য এসে চাকরিতে ঢুকে পড়েছে, অনেকে আবার ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে এলেও সে পারমিট আর নবায়ন করেনি। সবকিছুর পেছনে রয়েছে সরকারি সংস্থাগুলোর গাফিলতি। অবৈধ বিদেশীদের সংখ্যা এবং তারা কোথায় কোন্ ধরনের চাকরি করছে এসব বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য-পরিসংখ্যান নেই। থাকলেও তা প্রকাশ করা হয় না। এ অবস্থারও সুযোগ নিয়ে থাকে বিদেশীরা। তারা আরো বেশি সংখ্যায় চাকরি নিয়ে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে।এর ফলে একদিকে শিক্ষিত তরুণ-যুবকরা চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক হুমকির। উল্লেখ্য, স্বল্পসংখ্যক ছাড়া অবৈধ বিদেশীদের প্রায় সবাই ভারতীয় নাগরিক।
দেশের ভেতরে লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ-যুবক যেখানে চাকরি পাওয়ার জন্য হা-হুুুুতাশ করছে, বেকারের সংখ্যাও যেখানে হু হু করে বেড়ে চলেছে সেখানে ১২ লাখের বেশি ভারতীয়র অবৈধভাবে চাকরিতে নিয়োজিত থাকার তথ্য শুধু আশঙ্কাজনক নয়, যথেষ্ট আপত্তিকরও। একে বেকারের দেশে নির্মম নিষ্ঠুরতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।সরকারের গাফিলতিই এমন অবস্থার প্রধান কারণ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্থল সীমান্ত পথে পাসপোর্ট ছাড়া যে হাজার হাজার ভারতীয় হিন্দু আসছে তাদের তো খবরই নেই, পুলিশ এমনকি সেই সব ভারতীয় সম্পর্কেও কোনো খোঁজ-খবর করে না, যারা পাসপোর্ট নিয়ে আসে। অর্থাৎ বিদেশীদের ব্যাপারে সরকারের কোনো রকম মনিটরিং নেই বললেই চলে।অথচ বিদেশীরা তথা অবৈধ ভারতীয় কোথায় কি করছে বা কোনো ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে এসব বিষয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের মাধ্যমে খোঁজ-খবর রাখা সরকারের কর্তব্য। ভিসার মেয়াদ শেষে বিদেশীরা ফিরে যাচ্ছে কিনা- তা মনিটর করার পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর কেউ থেকে গেলে তাকে বহিস্কার বা গ্রেফতার করাসহ আইনত ব্যবস্থা নেয়াও সরকারের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। অন্যদিকে সরকার সে কর্তব্য পালনের ধারে-কাছেও যাচ্ছে না। আরো অনেকভাবেও অবৈধ বিদেশীদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হচ্ছে। বায়িং হাউস ও মোবাইলফোন কোম্পানিগুলোর উদাহরণ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিনিয়োগের আড়ালে বিশেষ করে ভারতীয় হিন্দুরা তাদের দেশ থেকে বেশি বেতনে লোকজন নিয়ে আসছে। তারা বেতনের টাকাও হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠাচ্ছে। ফলে একদিকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশীরা চাকরি পাচ্ছে না, অন্যদিকে হুন্ডির কারণে ভারতীয়দের বিনিয়োগে দেশও উপকৃত হচ্ছে না। এভাবে বিশেষ করে গার্মেন্টস ও মোবাইলফোনের মতো খাতগুলো বরং ভারতীয়দের দখলে চলে যাচ্ছে। বিদেশীদের ব্যাপারে মনিটরিং না থাকায় দেশের নিরাপত্তার দিকটিও উপেক্ষিত হচ্ছে। তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার যে অঙ্গিকার মান-নীয় প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন তা পূরণের কিছুটা কাছাকাছি যেতে হলেও অবৈধ বিদেশীদের বিদায় করা দরকার। এই সহজ সত্যটুকুও বুঝতে হবে যে, দেশে চাকরি পায় না বলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশীরা সমুদ্র পাড়ি দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সে কারণেই বিদেশে দেশের সম্মান ক্ষুুুণ্ণ হচ্ছে।
সংশি ষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য হাজার হাজার বিদেশী নাগরিক বিশেষতঃ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যম পর্যায় বা শীর্ষ পদে চাকরি করছে। পুলিশ, সেন-াবাহিনীতে অনেক ভারতীয় কলিকাতার লোক ভুুুুয়া ঠিকানা ভূয়া নাম এমন কি মুসলিম নাম ধারণ করে হাজার হাজার বাংলাদেশে চাকরি করে যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে। বিদেশী নাগরিক গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা আয় করলেও তারা কোনো কর দিচ্ছে না।
সংশি ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেপজা’র অনুমোদিত সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার আর এনজিও ব্যুরোর অনুমোদিত বিদেশী নাগরিক প্রায় ৫শ’।বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কাজ করে এমন বিদেশী নাগরিককে তাদের যেকোনো পরিমাণ আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়।একটানা তিন মাস বাংলাদেশে থাকলে বা এক বছরে ১৮০ দিন এ দেশে থাকলে তারা আয়করের আওতায় পড়বে।
সম্প্রতি বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছে, ‘আমাদের দেশে যথেষ্ট বেকার যুবক থাকা সত্ত্বেও ব্যাপকভাবে বিদেশী জনশক্তি এখানে কাজ করে। তাদের অনেকেই করের আওতায় আসে না। বিদেশী কর্মরত লোকজনের নিবন্ধন আমরা শুরু করেছি। এবারে তাদের উপর নিয়মিত কর ধার্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিশেষ, যারা এখন অবৈধভাবে বসবাস করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হউক । সকল সেক্টরে বিদেশি নিয়োগ বন্ধ করে দেশী বেকার যুবকদের নিয়োগ দিয়ে বেকার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক এই আমাদের প্রত্যাশা।
-বাফেলো, নিউইয়র্ক
(মতামত লেখকের নিজস্ব)

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

bn_BDBengali
en_USEnglish bn_BDBengali