Thursday, October 21, 2021


রাজাকার-নামা

By বাফেলো বাংলা , in Blog , at ফেব্রুয়ারী 9, 2020

কাজী হারুন: এবারের লেখায় দেশপ্রেমিক বাংলা-দেশীদের জন্যে থাকছে ফাঁস হয়ে যাওয়া রাজাকারের তালিকা নিয়ে ফেসবুকারদের চুম্বকীয় চুলচেরা বিশে ষণ এবং বিশেষণ!রাজাকারদের তালিকা প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ -যমুনা টিভি নিউজ রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করায় আনন্দ মিছিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।রাজাকারদের ভুল তালিকা প্রকাশের জন্য ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী! করেছে খতিয়ে দেখে তাকে আইনের আওতায় আনা দরকার।’ -জনৈক ফেসবুকার।
“এই’যে গোঁজামিলপূর্ণ বক্তব্য এর কারণ কি?তালিকায় কিছু মানুষের নাম ইচ্ছে করে দেয়া হয়েছে যারা আদৌ রাজাকার নয়। কিন্তু কেন?এই জন্য যে,যাদের নাম নতুন করে জুড়ে দেয়া হয়েছে যাতে করে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করুক। এই প্রতিবাদ যারা করবে তাদেরকেও আগে থেকে ঠিক করে রাখা হয়েছে।এটা লোক দেখানো মাত্র। এই লোক দেখানো প্রতিবাদকে পুঁজি বানিয়ে তালিকা সংশোধনের কথা উঠবে এবং উঠেছেও বটে। – জনৈক ফেসবুকার।
“এখন তালিকা সংশোধনের নামে লীগের চিহ্নিত রাজাকারদের নাম মুছে দেয়া হবে এবং একই সাথে জামায়াত বিএনপির দলের অনেক নেতা সমর্থকদের নাম যোগ করা হবে। এটা নিয়ে নতুন করে চেতনা ব্যবসা শুরু হবে বটে। কিন্তু মানুষ যে সত্যটা জেনে গেল এটাকে লুকিয়ে রাখবে কি দিয়ে”?- জনৈক ফেসবুকার।”তবে যাইহোক, স্বাধীনতার পর পাকিস্তান আমাদের শত্রু হয়েও ক্ষতি করেনি যেমনটা বন্ধু হয়ে সবসময়ই করে আসছে ভারত! আর আমাদের দেশের একটা গোষ্ঠী যেভাবে কথায় কথায় পাকিস্তান নিয়ে ব্যবসা করে সেই হিসাবে পাকিস্তান আমাদের নিয়ে মাথাই ঘামায় না! “আমরা যদি ভাবতে থাকি যে পাকিস্তান আমাদের কাছে প্রতিদিন ক্ষমা চাইবে তাহলে আমাদের ভাবনাটা হবে বুকার শহরে বসবাসরত কোন প্রাণীর ভাবনা।” – জনৈক ফেসবুকার।
আমার দেখা ও জানামতে পাকিস্তানিরা এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে গাদ্দার ও গোঁয়ার জাতি।যদিও পাকিস্তানের কিছু মানুষ এখনো আমাদের জন্য আফসোস করে, তারা নিজেরা এখনো মর্মাহত! যারা আমাদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল তারা আজ নেই, কিন্তু তাদেরকে আমরা ঘৃনা করি এবং পাকিস্তানের বর্তমান প্রজন্মের মানুষেও ঘৃনা করে।সুতরাং আমাদের উচিত অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে তাদেরকে ব্যবহার করা। আর ভারত হলো বাংলাদেশের চিরশত্রু সুতরাং তাদের সাথেও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে কিন্তু এক শতাংশও ছাড় দেওয়া যাবেনা ।
একটা কথা জাতি হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে সবার ভালোবাসাই দেখেছি এখন আর ভালোবাসার দরকার নাই! যেদিকে দেশের স্বার্থ আছে তাদের প্রতিই আমাদের ভালোবাসা আছে এবং থাকবে, কারন আমাদের কাছে ভালোবাসার অভাব নাই যত ভালোবাসা লাগে ততো ভালোবাসা দেবো কিন্তু স্বামী বলে ভারতকে তৈলমর্দন করে নয়।বাংলাদেশ যদি ভারতের স্ত্রী হয় তবে পাকিস্তান হলো বাংলাদেশের সতীন, আর ভারতের প্রথম স্ত্রী !পাকিরা ডিভোর্স নিয়ে বেঁচে গেছে, আর বাংলাদেশ স্ত্রীর মর্যাদার অজুহাতে স্বামী কতৃক সার্বক্ষণিক অত্যাচারিত, নীপিড়িত ও নিগৃহীত ! ডিভোর্স ব্যতীত এর সমাধান কষ্মিনকালেও হবেনা। এমন মাতাল স্বামী আমাদের আর দরকার নাই। আর কতকাল আমরা যৌতুকের বলি হবো বলতে পারেন ? সুতরাং পাকিদের পর ভারতীয় পন্য বর্জন করুন, যারা ভারতকে প্রণাম করে তাদেরও বর্জন করুন, যারা ভারতের দালাল তাদেরও বর্জন করুন। প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন হন ॥
একটা যুদ্ধে জেতার পরে সত্যিকারের রাষ্ট্রের জনগণের পরিকল্পনা থাকে যাতে ভবিষ্যতে আর এরকম কোন শ্ত্রু এসে গণহত্যা বা অত্যাচার না চালাতে পারে। পাকিস্তান ভারতের কাছে হেরে গিয়ে পারমাণবিক বোমা বানিয়েছে আর আমরা রাজাকারদের মুক্তিযোদ্দ্বা বানিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের সবত্র চোর, গুন্ডা, বদমাশ, ঘুষখোর এবং ধর্ষক বৃদ্বি পাচ্ছে চক্রবৃদ্দ্বি হরে যেন সরকারি মাল দরিয়ামে ঢাল।চুরি চামারি , ঘুষ বাটপারী, দুর্নীতি জালিয়াতি সব করে হজ্জে গিয়ে হবে আলহাজ্ব ! ফিরে এসে আলহাজ্ব নামে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আবার চুরি ! তারপর নেতা বাবা! যার নেই কোন প্রতিকার। আবার আমরা বাংলাদেশিরা নিজেদের ডিফেন্স শক্তিশালী করার বদলে মিয়ানমার আর ভারতের অত্যাচারে কোনঠাসা। এ মুহূর্তে আমাদের কোন আন্তর্জাতিক মিত্র বা বন্ধুও নাই।এরকম ধ্বজভঙ্গ একটা জাতির কাছে পাকিস্তান কিসের দুঃখে, কিসের জন্য ক্ষমা চাইবে ?পাকিদেরকে সর্বক্ষেত্রে পদদলিত করার জন্য আমাদের সর্বাগ্রে দরকার একটি সম্মিলিত সুসংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ব্য জাতি। বর্তমানের ক্ষমতা ব্যবসায়ী কোন দলের পক্ষ্যে এমন ঐক্য সম্ভব বলে যারা মনে করেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন।
একজন বীর মুক্তিযোদ্দ্বার সন্তান হিসেবে বলছি, আমার কাছে পাকিস্তানী এবং ভারতীয় রাজাকার একই রকমের ভয়ঙ্কর একই রকমের দানব বরং ভারতীয়রাজাকাররা দানবের রাজা। আপনার নীতিকথা শুনে কেউ যদি আপনাকে রাজাকার বলে, তবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন তার বাপ্-দাদা রাজাকার ছিল তাতে সন্দেহ নাই! আর সেই দুর্নাম গোছানোর জন্য আপনাকে রাজাকার বলে হুঙ্কার দেয়। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা, ইহাই আজকের রাজনীতি! মুক্তিযোদ্ধারা ভাত না পেয়ে আজ রাজাকার, আর রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা সেজে মেতে উঠেছে দখল বাণিজ্যে! দখল সর্বত্র, দেশের সর্বনিম্ন পর্যায় হতে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত। মুক্তিযোদ্ধা সেজে ওঁৎ পেতে থাকা রাজাকার থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী অতিদ্রুত মুক্তিযোদ্ধা বনে যাওয়া রাজাকার-রাই আজ সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। আমরা মুক্তিযোদ্দ্বা সেজে ঘাপটি মেরে প্রশাসনের সর্বত্র বসে থাকা রাজাকারদের অতিদ্রুত বিচার কামনা করছি এবং প্রকৃতই যাঁরা যুদ্ধ্বকরে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছেন অবশ্যই তাঁদের স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছি। জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্তের প্রতীক!! বাংলার বীর মুক্তিসেনারা জীবনের বিনিময়ে পাকিদের (১৯৪৭ হতে ১৯৭১ ) অত্যাচার আর জুলুমের শৃঙ্খল হতে মুক্ত করেছিলেন আমাদের !যারা পাকিপন্থী (রাজাকার) গোলাম ছিল তাদের আজ বিচার/ফাঁসী হয়েছে /হচেছ !! আমরা আনন্দিত। আমরা আজ পাকিদের শৃঙ্খল হতে ১০০% মুক্ত!! কিন্তু সেই ১৯৪৭ হতে আজও প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ইন্ডিয়া বা ভারতের হাতে এদেশীয় ভারতীয় রাজাকার কতৃক আমার প্রিয় মাতৃভূমি, মাতৃভাষা, সংস্কৃতি, প্রতিটি স্বাধীন নাগরিক পাকিদের চাইতেও শতগুণ বেশি জুলুম ও অত্যাচারের শিকার!! কারন : আমাদের আছে অগণিত (ইন্দুগোলাম ) ইন্ডিয়াপন্থী রাজাকার!আমরা কবে ইন্দুমুক্ত হবো ? কবে হবে ইন্ডিয়াপন্থী রাজাকারদের বিচার? বাংলাদেশ কি আদৌ রাজাকারমুক্ত হবে? মনে রাখতে হবে, যুগেযুগে মীরজাফররা ছিল এবং থাকবে ! এদেরকে কখনোই নিশ্চিহ্ন করা যাবে না অথবা ওরা নিশ্চিহ্ন হবে না!
পরিশেষে বলবো এই বাংলাদেশ সবার, এই বাংলাদেশ লক্ষকোটি বীর মুক্তিসেনার। এ বাংলাদেশ, এ বিজয় কোন গোত্র, পরিবার বা মহলের বিজয় নয়, এ বিজয় বাংলাদেশী পরিচয়ের বিজয়, এ পরিচয় বাংলাদেশী হিসেবে মর্যাদার বিজয়। এ বিজয় শুধুমাত্র পাকি রাজাকারের বিরুদ্ধে নয় এ বিজয় অর্জিত হোক ভারতীয় রাজাকারের বিরুদ্ধেও। বিজয়ের শুভেচ্ছা সকল দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীকে। বাংলাদেশ অমর হোক ॥ সুবিধাবাদ নিপাত যাক ॥
-বাফেলো, নিউইয়র্ক
(মতামত লেখকের নিজস্ব)

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

bn_BDBengali
en_USEnglish bn_BDBengali